ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় ২ কোটি মানুষ

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, রাজধানী তেহরানে প্রায় ২ কোটি মানুষ এবং সারা দেশে মোট প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ১৪ হাজার সংবাদকর্মীর উপস্থিতিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এই উপস্থিতি নিশ্চিত হলে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ড অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিপুল জনসমাগমের কথা বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৯৮৯ সালের ৬ জুন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজা ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাগমে পরিণত হয়েছিল। লাখো শোকাহত মানুষ জানাজার শোভাযাত্রার পথে ভিড় করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে পদদলিত হয়ে বহু মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে খোমেনির ছেলে আহমদ খোমেনিও ছিলেন। সে ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়ার পরও ভিড় কমেনি। শেষ পর্যন্ত ওই দিনের দাফন স্থগিত করে পরদিন সকালে জানাজা ও দাফনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সারারাত মরদেহের পাশে অবস্থান করেছিলেন বলে জানানো হয়।

বিশ্ব রেকর্ড সংরক্ষণকারী সংস্থা ওই জানাজাকে জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জানাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় প্রায় ১ কোটি ২ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়, যা তখনকার ইরানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ ছিল।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। টানা ৩৬ বছর ৬ মাস তিনি দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় তিনি নিহত হন। বর্তমানে তাকে চূড়ান্ত বিদায় জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।