লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
বুধবার (২৪ জুন) বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী এবং যারা অন্যায়ভাবে মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাদের পরিণতি শুভ হয় না। তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অস্বীকার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের জন্য কঠিন শাস্তির আশঙ্কা রয়েছে।
তার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, কুরআনের আয়াতের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের আয়াত নিয়ে কোনো ধরনের ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা ভুল ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে স্পিকার বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন-হাদিস নিয়ে অবমাননাকর কিছু বলেছেন বলে মনে হয় না। তবে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ভুল ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কে অংশ নিয়ে বলেন, অভিযুক্ত সংসদ সদস্য একজন আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। কোনো সংসদ সদস্য ইসলামের অবমাননা করলে সরকার অবশ্যই তার নিন্দা করবে। তবে বর্তমান ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সমীচীন নয়।
এদিকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে বিষয়টিকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাজেটের প্রশংসা না করলে আল্লাহর শাস্তি নেমে আসবে—এ ধরনের ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে অনেক আলেম ও ধর্মীয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ সদস্য রয়েছেন। তাই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলা উচিত।
পরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান বক্তব্য দিয়ে সবাইকে সঠিক বিষয় মেনে চলা এবং তার ওপর আমল করার আহ্বান জানান।
সবশেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করে বলেন, অভিযুক্ত সংসদ সদস্য কোনো ব্যঙ্গ বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। বরং তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। সংসদের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সংযত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।