লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলিভিয়া। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।
শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন বর্তমানে সরকার পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। শ্রমিক সংগঠন, কৃষক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগও দাবি করছেন।
টানা ৫০ দিনের সড়ক অবরোধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, দেশের প্রধান সড়কগুলো অবরোধমুক্ত করতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জরুরি অবস্থা কার্যকর হওয়ার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশকে সড়ক খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশটির আইন অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় আইনসভাকে বিষয়টি জানাতে হবে। পরে আইনসভা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবে।
এর আগে গত মাসে অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীকে হস্তক্ষেপের অনুমতি দিয়ে একটি আইন স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট পাজ। তখন তিনি বলেছিলেন, আলোচনার সব পথ ব্যর্থ হলে কেবল শেষ উপায় হিসেবে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি দাবি করেন, বৈধ দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
মাত্র সাত মাস আগে ক্ষমতায় আসা মধ্যপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ প্রায় দুই দশকের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশটির নেতৃত্বে আসেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় অর্থনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তবে চলতি বছরের মে মাসে বাজেট ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর জনঅসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। বর্তমানে দেশটি বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হ্রাস এবং কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি।
আন্দোলনকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধি, ডলারের সংকট নিরসন এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিও জানিয়ে আসছেন।