লালসবুজ২৪.কম
ভয়ংকর এল নিনোর প্রভাবে ইউরোপের এক দেশেই ১ হাজার মানুষের মৃত্যু

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভয়ংকর এল নিনোর প্রভাবে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ দেখা দিয়েছে। অস্বাভাবিক গরমে একের পর এক দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরই মধ্যে শুধু ফ্রান্সেই তাপদাহে এক হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানানো হয়, তাপদাহজনিত কারণে এক হাজার মানুষের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। তবে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আরও অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে রয়েছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ২৪ জুন থেকে এ পর্যন্ত গত মাসগুলোর একই সময়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। একাকী ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের সুরক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

গত কয়েকদিন ধরে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলেও রোববার কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখনো তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে আল্পস পর্বতমালা পর্যন্ত বহু এলাকায় ভেঙেছে আগের তাপমাত্রার রেকর্ড।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এবারের এল নিনো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। যদিও কিছু গণমাধ্যম একে ‘সুপার এল নিনো’ বলে উল্লেখ করলেও এটি কোনো বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়।

জার্মানিতে সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ডেনমার্কে ১৮৭৪ সালের পর সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্র, সুইজারল্যান্ড ও স্লোভাকিয়াতেও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়েছে।

জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া এমন তীব্র তাপদাহ প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে রাতের অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার ঘটনা দুই দশক আগের তুলনায় প্রায় একশ গুণ বেড়েছে।

তাপদাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানির একটি ব্যস্ত মহাসড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় আংশিকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকটি দেশে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও জনসমাগমের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে।

ইতালির ১৮টি শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। দেশটির প্রধান নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ভেতরের দিকে প্রবেশ করছে, যা কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত উষ্ণ পানির কারণে হাঙ্গেরি ও সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন কমানো বা সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উচ্চচাপ বলয়ের বিশেষ একটি অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ বায়ু ইউরোপের ওপর আটকে রয়েছে। তবে সপ্তাহান্তের পর ধীরে ধীরে তাপদাহ কমতে পারে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এল নিনো হলো প্রাকৃতিক জলবায়ুর একটি চক্র, যা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া এল নিনো পরিস্থিতিও বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছিল।

লালসবুজ২৪.কম
ইমেইল: info@lalsobuj24.com