লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া মাদ্রাজ উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। এ রায় বাতিলের আবেদন জানিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছে সরকার।
বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবেদনে তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে, রাজ্যে গরু জবাই বিষয়ে যে আইন বর্তমানে কার্যকর রয়েছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারের দাবি, এ রায়ের মাধ্যমে আদালত আইনসভার নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে মাদ্রাজ উচ্চ আদালত এক আদেশে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার অংশ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের উদ্দেশ্য ছিল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তবে রাজ্য সরকারের দাবি, ১৯৫৮ সালের তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কৃষিকাজ বা প্রজননের জন্য অযোগ্য গরু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে জবাই করা যেতে পারে।
সরকারের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উচ্চ আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
গত ২৭ মে মাদ্রাজ উচ্চ আদালতের একটি দ্বৈত বিচারপতি বেঞ্চ নির্দেশ দেন, পশু জবাই শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানায় করা যাবে। পাশাপাশি ঈদুল আজহাসহ যেকোনো সময় গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ে সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে গরু, বাছুর এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশু জবাই রোধে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অনুশীলন নয়।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, আদালতের এ নির্দেশনার ফলে রাজ্যের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এখন দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্য সরকার।