নাম বদলে কালো টাকা হচ্ছে ‘মূলধনি আয়’! বাজেটে নতুন বিতর্ক
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করছেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, এ ধরনের আয়কে কালো টাকা বলা ঠিক হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলধনি আয়। কোনো ব্যক্তি তার মূলধনি সম্পদ বিক্রি করে যে অর্থ অর্জন করেন, সেটিই এই আয়ের উৎস।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত বাজারমূল্য এবং নিবন্ধিত মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য থাকবে, সেই অর্থ করদাতা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করতে পারবেন। নির্ধারিত হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে ওই অর্থকে বৈধ আয়ের আওতায় আনা যাবে। তবে এজন্য তাকে প্রমাণ করতে হবে যে অর্থটি সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, কোনো জমি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হলেও যদি নিবন্ধন মূল্য ২ লাখ টাকা দেখানো হয়, তাহলে অবশিষ্ট ৮ লাখ টাকা আয়কর বিবরণীতে দেখিয়ে কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যাবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, মূলধনি আয় বলতে কোনো সম্পদ ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত মুনাফাকে বোঝায়। কিন্তু নিবন্ধন মূল্যের বাইরে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থকে মূলধনি আয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক নয়।
নীতিগত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই মূলধনি আয় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তার মতে, বারবার এ ধরনের সুযোগ দেওয়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না, বরং নিয়মিত করদাতাদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যায়।
তিনি আরও বলেন, জমির নিবন্ধন মূল্যের সঙ্গে বাজারমূল্যের বড় ব্যবধান থাকায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অপ্রদর্শিত থেকে যায়। সরকার মৌজা মূল্য হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। নীতিমালার পরিবর্তনের আগে এটি হয়তো এমন সুযোগের শেষ অধ্যায় হতে পারে।