কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা?

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার দেশটি এখন তার উত্তরসূরি খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রায় চার দশক ধরে কঠোর হাতে শাসন করা এই প্রবীণ নেতার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত কোনো উত্তরাধিকারী এই মুহূর্তে নেই।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ নামে পরিচিত ৮৮ জন সিনিয়র ধর্মীয় নেতার একটি নির্বাচিত সংস্থা পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবে। ১৯৭৯ সালে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসানের পর ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই প্রক্রিয়া কেবল একবারই সম্পন্ন হয়েছে, যখন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনিকে নির্বাচিত করা হয়েছিল।

মূলত শাসকগোষ্ঠী স্থিতিশীলতা প্রদর্শনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাইবে ও পরিষদের সদস্যরা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ বোমা হামলা অব্যাহত থাকায় তারা এই সমাবেশের ঝুঁকি নিতে পারবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইরানের সুপ্রিম লিডার হওয়ার যোগ্যতা ও মাপকাঠি: নতুন নেতাকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে ও রাজনৈতিক যোগ্যতা, নৈতিক কর্তৃত্ব ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্যসম্পন্ন ধর্মযাজক হতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষজ্ঞ পরিষদ এবারও সংস্কারবাদী ধর্মযাজকদের বাদ দিয়ে কট্টরপন্থী কাউকে বেছে নেওয়ার নিয়মগুলো অনুসরণ করবে।

সম্ভাব্য মুখ বা আলোচনায় রয়েছেন যারা

মোজতবা খামেনি: খামেনির দ্বিতীয় পুত্র হিসেবে পর্দার আড়ালে তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস এবং বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে তার দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইরানি বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকার বা রাজতান্ত্রিক প্রথাকে অবজ্ঞা করা হয়। এছাড়া তিনি উচ্চপদস্থ ধর্মযাজক নন ও ২০১৯ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।

আলীরেজা আরাফি: তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ধর্মযাজক ও খামেনির অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও শক্তিশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য। তিনি প্রযুক্তি-বুদ্ধিমান ও ২৪টি বই ও নিবন্ধের লেখক। তবে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুব একটা ঘনিষ্ঠ নয়।

মোহাম্মদ মেহেদী মিরবাঘেরি: একজন কট্টরপন্থী ধর্মযাজক যিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে রক্ষণশীল শাখার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি পশ্চিমাদের তীব্র বিরোধী ও বিশ্বাস করেন কাফেরদের সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য। সম্প্রতি তিনি গাজা যুদ্ধে উচ্চ মৃত্যুহারকে ন্যায্যতা দিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।

হাসান খোমেনি: তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। তবে শাসনব্যবস্থায় বা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তার প্রভাব খুব কম। তিনি তুলনামূলক কম কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ও ২০১৬ সালে তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি: একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মযাজক, যিনি বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ হলেও আইআরজিসির সঙ্গে তার তেমন জোরালো সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, দেশটি রোববারের মধ্যেই একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করবে। সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করবে এই পরিষদ।