দীর্ঘ সংঘাতের অবসান, ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। রোববার এ চুক্তির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রচার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি সব ধরনের টোল ছাড়াই উন্মুক্ত করার পাশাপাশি মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদনের কথাও ঘোষণা করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও শান্তিচুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনা শেষে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
শাহবাজ শরিফ বলেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন বাস্তবায়নসংক্রান্ত কয়েকটি আলোচনা সম্পন্ন করা হবে।
চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কাজ করছে। এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি নিজে বা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। জেডি ভ্যান্স এই চুক্তিকে শান্তির নতুন দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি জানান, সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে এবং রোববার রাত থেকেই মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর সংঘাতের সূচনা হয়। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিরোধের কারণে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শান্তিচুক্তি ঘোষণার দিনই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এ হামলার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, শান্তির এত কাছাকাছি অবস্থানে এমন ঘটনা কাম্য ছিল না এবং সব পক্ষের সংযত থাকা উচিত।
মানবাধিকারভিত্তিক একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানে তিন হাজার ছয়শর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার সাতশ জন বেসামরিক নাগরিক। লেবাননেও প্রাণহানির সংখ্যা তিন হাজার সাতশ ছাড়িয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চল, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ