যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমকে’ লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল, আজ থেকেই কার্যকর
লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধে অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তার পর দুই পক্ষ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে। শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব ইসরায়েলকে দ্রুত সংঘাত বন্ধে চাপ প্রয়োগ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান একঘরে অবস্থানের বিষয়টিও ইসরায়েলকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এর পরই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অগ্রগতি দেখা যায়।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চললেও পরে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগে লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই হামলাকে চলমান সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে লেবানন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনাও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে লেবাননের পরিস্থিতির কারণে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তেহরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ী করেছে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠক আপাতত স্থগিত হলেও ভবিষ্যৎ আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।