চীনে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন রাশিয়ার সেনারা, গোপন নথি ফাঁস

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

চীনে রুশ সেনাদের জন্য গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনে পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির হাতে আসা গোপন নথি এবং দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এমন প্রশিক্ষণে উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত বহন করে। বিষয়টি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে চীন এ ধরনের প্রশিক্ষণের অভিযোগ নাকচ করেছে।

প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনার ভিত্তিতে রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল চীনে গিয়ে দেশটির সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

নথি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের একটি সামরিক প্রতিষ্ঠানে তিন সপ্তাহব্যাপী তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈব প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশেষ কোর্স পরিচালিত হয়।

গোপন নথি ও প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, চীনা প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে রুশ সেনারা পারমাণবিক চুল্লির আদলে তৈরি মডেল ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পাশাপাশি রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্তকরণ এবং দূষণের প্রভাব থেকে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার কৌশলও শেখানো হয়।

এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জৈব যুদ্ধসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

চীন বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে।

এর আগে গত মাসে রয়টার্স ইউরোপীয় গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস জানান, তাদের নিজস্ব সূত্রেও এ ধরনের প্রশিক্ষণের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে বেইজিং তার এ বক্তব্যকে অপপ্রচার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাশিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও বর্তমানে দেশটিকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার অভিযোগে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

গোপন নথিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রাশিয়ার পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান এসব প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, রুশ সেনাবাহিনীর চীনের কাছ থেকে শেখার মতো কিছু নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে অংশ নেওয়ায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী ব্যাপক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে চীনের সেনাবাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যাধুনিক হলেও কয়েক দশক ধরে কোনো বড় যুদ্ধে অংশ নেয়নি। রুশ সামরিক নথিতেও চীনের প্রশিক্ষণ সরঞ্জামের প্রশংসা করা হলেও বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।