‘বিয়ে নয়, আগে একসঙ্গে থাকুন’ আবারও একই বার্তা জিনাতের
বিয়ের আগে একসঙ্গে বসবাসের পরামর্শ দিয়ে আগে থেকেই আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমান। সেই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা হলেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি। বরং এবার আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে একসঙ্গে থাকা দুই মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া যাচাইয়ের কার্যকর উপায় হতে পারে।
সম্প্রতি ভারতীয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপক শুভ্রা আইয়াপ্পার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় জিনাত বলেন, বর্তমান সময়ে বিয়ের আগে একসঙ্গে বসবাসের বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। তার মতে, কোনো সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আগে দুইজন মানুষের মানসিকতা, আবেগ, জীবনযাপন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
জিনাতের ভাষ্য, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতের অমিল থাকলে সেই সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে। তাই এসব বিষয় আগেই বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অসুখী সম্পর্কে থাকার চেয়ে স্বল্প সময়ের সুখী সম্পর্ক অনেক বেশি মূল্যবান। যদি একটি সম্পর্ক মানুষের জীবনে সুখই না এনে দেয়, তাহলে শুধু ধরে রাখার জন্য সেটি টিকিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই।
সম্পর্কের স্থায়িত্ব প্রসঙ্গে জিনাত বলেন, অনেকেই মনে করেন প্রেমের শুরুর রোমাঞ্চ সারাজীবন একইভাবে বজায় থাকবে। কিন্তু বাস্তবে একটি সম্পর্ক টিকে থাকে সময়, পারস্পরিক সমঝোতা, ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। এজন্য সম্পর্ককে সফল করতে উভয়ের সমান আন্তরিকতা প্রয়োজন।
এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি একই মত প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে জিনাত লিখেছিলেন, প্রেমের সম্পর্কে থাকলে বিয়ের আগে অন্তত কিছু সময় একসঙ্গে বসবাস করা উচিত। এমন পরামর্শ তিনি নিজের দুই ছেলেকেও দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তার মতে, দুই পরিবার বা রাষ্ট্রকে একটি সম্পর্কে যুক্ত করার আগে বাস্তব জীবনে একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজের সেরা রূপ তুলে ধরা সহজ হলেও, একই ছাদের নিচে প্রতিদিন বসবাস, দায়িত্ব ভাগাভাগি, কঠিন সময় মোকাবিলা এবং ছোটখাটো মতবিরোধ সামলানোর মধ্য দিয়েই বোঝা যায় দুই মানুষ সত্যিই একে অপরের জন্য উপযুক্ত কি না।
তবে জিনাতের এই বক্তব্য সবাই ইতিবাচকভাবে নেননি। অভিনেত্রী সায়রা বানু এর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য এ ধরনের বিতর্কিত পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জিনাত নিজেও দীর্ঘদিন পরিচয়ের পর মাজহার খানকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু সেই দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। তাই সম্পর্ক নিয়ে তার পরামর্শের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সায়রা।